একই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ২জন সাধারণ সম্পাদক দুজনেই গ্রেফতার!!
একই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ২জন সাধারণ সম্পাদক দুজনেই গ্রেফতার!!
ইমতিয়াজ আহমেদঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে? কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পরপর দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সামনে এনেছে এমন প্রশ্ন। আট দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকেই একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে পুলিশ।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একই ইউনিয়নে একই পদে দুজন কীভাবে সাধারণ সম্পাদক হলেন?
কালীগঞ্জ থানা পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের বিজ্ঞপ্তি ও ফ্লাশ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২০ অক্টোবর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফজলুর রহমান খাঁ (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কালীগঞ্জ থানার ৪১ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিকে ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজ্ঞপ্তি ও ফ্লাশ রিপোর্টে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে অভিযানের মাত্র আট দিন পর, ২৮ অক্টোবর আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও ফ্লাশ রিপোর্ট প্রকাশ করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আনোয়ার হোসেন (৫৮) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিত ও ফ্লাশ রিপোর্টে গ্রেপ্তাকৃত ব্যক্তিকে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া দুটি বিজ্ঞপ্তি ও ফ্লাশ রিপোর্টে একই পদে দুই ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ-পদবির তথ্য যাচাই করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রকৃত দায়িত্বে কে রয়েছেন? নাকি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে পরিচয় উল্লেখের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়েছে?
বিষয়টি জানতে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলীকে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে তথ্য না থাকায় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, এমনটি হওয়ার তো কথা নয়। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।
এদিকে একই ইউনিয়নের একই পদে দুই ব্যক্তিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এটি তথ্যগত ভুল, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবী তুলেছে উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।